একজন Self-Taught ডেভেলপারের অম্লমধুর জার্নি

২০০৭ থেকে ২০২৬—দেখতে দেখতে প্রায় দুই দশক। পেছনে তাকালে মাঝে মাঝে নিজেকেই নিজে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। আজকে যখন চারদিকে রিসোর্সের বন্যা, এআই (AI) আমাদের হাতের মুঠোয়, তখন মনে পড়ে যায় সেই দিনগুলোর কথা, যখন একটা তথ্যের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো। আমার এই দীর্ঘ পথচলাটা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা সুশৃঙ্খল ট্রেনিংয়ের গল্প নয়; এটা স্রেফ জেদ, কৌতুহল আর টিকে থাকার এক কঠিন যুদ্ধ।

শুরুর গল্প: বাটন ফোনের স্ক্রিন থেকে কোডিংয়ের দুনিয়ায়

তখন ২০০৭ সাল। চারদিকে জাভা বা সিম্বিয়ান ফোনের যুগ। ছোট একটা মোবাইল স্ক্রিনে বিভিন্ন সাইট ব্রাউজ করে যখন রিংটোন আর ওয়ালপেপার ডাউনলোড করতাম, হঠাৎ মাথায় একটা ভূত চাপলো—আচ্ছা, এই সাইটগুলো মানুষ বানায় কীভাবে? তখন না ছিল গাইড করার মতো কেউ, না ছিল কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধারণা।

হন্যে হয়ে খুঁজতে খুঁজতে একদিন একটা ফ্রি মোবাইল সাইট বিল্ডারের সন্ধান পেলাম। সেখান থেকেই জীবনের প্রথম HTML-এর সাথে পরিচয়। মোবাইল স্ক্রিনেই কোড লিখে সাইট বানালাম, আস্তে আস্তে বুঝলাম CSS-এর জাদু। কোনো মেন্টর নেই, শেখার মতো কোনো কমিউনিটি নেই; স্রেফ শখ আর তীব্র কৌতুহলকে পুঁজি করে ভাঙা ভাঙা পায়ে এগিয়ে চলা।

ওয়ার্ডপ্রেস, পিএইচপি এবং প্রথম প্লাগইন

২০১০ সালে এসে পরিচয় হলো ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে। আর এই ওয়ার্ডপ্রেসের হাত ধরেই ব্যাক-এন্ডের দুনিয়ায় পা রাখা, পরিচয় হওয়া PHP-এর সাথে। দীর্ঘ দুই বছরের চেষ্টায় ২০১২ সালে প্রথম একটা নিজস্ব প্লাগইন বানিয়ে সবার জন্য উন্মুক্ত করলাম। তবে সত্যি বলতে, তখন পর্যাপ্ত গাইডলাইন এবং অ্যাডভান্সড রিসোর্সের এত অভাব ছিল যে, যতটুকু সম্ভাবনা নিয়ে আমি এগোতে পারতাম, ঠিক ততদূর যাওয়া হয়নি।

২০১৬-২০১৭: ফ্রিল্যান্সিং থেকে সরাসরি রিমোট জব

বাঁক বদলটা হলো ২০১৬ সালে। সেই স্বল্প আর ভাঙাচোরা অভিজ্ঞতার আলোকেই হঠাত একটা ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ পেয়ে গেলাম, তাও আবার সরাসরি বিদেশী ক্লায়েন্টের সাথে। এর ঠিক পরের বছর, ২০১৭ সালে পেয়ে গেলাম একটি ফুল-টাইম রিমোট জব।

কিন্তু এটাই কি সাফল্যের শেষ? না, আসল যুদ্ধটা তো মাত্র শুরু হলো! একদিকে নিজের অভিজ্ঞতার প্রচণ্ড ঘাটতি, অন্যদিকে প্রতিদিন ক্লায়েন্ট বা বসের টেবিলে হাজির হওয়া নিত্যনতুন জটিল সব টেকনিক্যাল সমস্যা। এত দ্রুত নতুন জিনিস শিখতে হচ্ছিল এবং তখনই সেটা প্রোডাকশনে অ্যাপ্লাই করতে হচ্ছিল যে, মাঝে মাঝে মাথা কাজ করত না। চরম দিশেহারা আর হতাশ লাগতো, কিন্তু ‘হাল ছেড়ে দেওয়া’র অপশন আমার ডিকশনারিতে ছিল না।

নতুন চ্যালেঞ্জ: মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট

২০১৭ সালেই হঠাৎ বসের নির্দেশ—মোবাইল অ্যাপ বানাতে হবে। আমার তখন অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের ‘অ’-ও জানা নেই। কোনো সিনিয়র ডেভেলপার নেই পাশে, নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ট্রেনিং। দিনরাত এক করে গুগলে সার্চ করা, স্ট্যাক ওভারফ্লো বা বিভিন্ন ফোরাম আর ব্লগ সাইট ঘাঁটাঘাঁটি করা—এটাই ছিল আমার রুটিন। একদিকে নিজে শিখছি, অন্যদিকে প্রতিদিন বসকে অ্যাপের প্রগ্রেস আপডেট দিচ্ছি।

ঐ বছরই একই সাথে অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস (iOS) অ্যাপ তৈরি করা শুরু করলাম নেটিভ সিস্টেমে (Java এবং Swift দিয়ে)। মাত্রই একটু গুছিয়ে উঠছি, ঠিক পরের বছরই (২০১৮) চারদিকে ‘ফ্লাটার’ (Flutter) নিয়ে তুমুল হাইপ শুরু হলো। ওদিকে iOS-এ সুইফটের পরিবর্তে ‘সুইফট ইউআই’ (SwiftUI) নিয়ে মাতামাতি। নিজের শেখা সিস্টেমটা দাঁড় করানোর আগেই টেকনোলজির এই দ্রুত পরিবর্তন দেখে আরও দিশেহারা লেগেছিল। কিন্তু আমি নিজের সিদ্ধান্তে স্থির থাকলাম—যেটা শুরু করেছি, আগে সেটাতেই শক্ত ভিত গড়বো।

টেকনোলজির সমুদ্র এবং একা একাই টিকে থাকা

যখন নিজের PHP স্কিল আরও মজবুত করতে চাচ্ছিলাম, তখনই চোখের সামনে একের পর এক ধেয়ে আসতে লাগলো লারাভেল, নোড জেএস, রিয়্যাক্ট জেএসের মতো ফ্রেমওয়ার্কের জোয়ার। মনে হতো অথৈ সাগরে পড়েছি, কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছি না। কিন্তু আমি আমার জায়গায় স্থির থাকলাম। কারণ আমি জানতাম, এই মুহূর্তে যেটা দিয়ে আমার কাজ চলছে এবং ডাল-ভাত জুটছে, সেটা আগে নিখুঁতভাবে চালিয়ে যেতে হবে।

ধীরে ধীরে সময় বদলালো। ইন্টারনেটে প্রচুর রিসোর্স আসতে শুরু করলো। শেখাটা আগের চেয়ে অনেক সহজ হলো, ফলে মাথার ওপর থেকে মানসিক প্রেসারটাও কমলো। জটিল সব সমস্যার সমাধান এখন আগের চেয়ে দ্রুত করতে পারি। তবে এই দীর্ঘ সময়ে আমার একটা নিয়ম কখনো বদলায়নি—কখনো কোনো সমস্যা সমাধান না করে আমি কাজ থামাইনি। আর আজ তো এআই (AI) এসে সবকিছু আরও সহজ করে দিয়েছে, মনে হয় পুরো টেক দুনিয়াটাই এখন হাতের মুঠোয়!

৩৬৫ দিনের যুদ্ধ এবং ছুটির গুরুত্ব

কাজের চাপ আমার কখনোই কমেনি। ২০১৭ সালে রিমোট জবে ঢোকার পর থেকে টানা সাড়ে তিন বছর আমি কোনো সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া কাজ করেছি। ভাবা যায়? ৩৬৫ দিনই কোডিং, ক্লায়েন্ট হ্যান্ডলিং আর প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট! এই তীব্র প্রেসার, মানসিক টেনশন আর দিনরাতের একঘেয়েমি আমার ব্যক্তিগত জীবনকে প্রায় পিষে ফেলছিল। বুঝতে পারলাম, নূন্যতম ছুটি না পেলে আমার পক্ষে কাজ করা অসম্ভব হয়ে দাড়াবে। অবশেষে ২০২১ সালে আমি আমার বসকে বুঝিয়ে বললাম এবং সপ্তাহে অন্তত ১ দিন ছুটির দাবি জানালাম। ২০২১ সাল থেকে পাওয়া সপ্তাহে সেই ১টি দিনের ছুটি আমার জীবনে মরুভূমিতে মেঘের মতো স্বস্তি এনে দিয়েছিল। এই ছুটির কিছুটা সময় আমার স্কিল ডেভেলপমেন্টেও সাহায্য করেছে।

ফুল-স্ট্যাকের আড়ালে হারিয়ে যাওয়া ‘এক্সপার্টাইজ’

একজন রিমোট ডেভেলপার হিসেবে যেকোনো প্রজেক্টের প্ল্যানিং, আর্কিটেকচার থেকে শুরু করে কোডিং এবং ডেপ্লয়মেন্ট —সবকিছুই আমাকে একা করতে হয়। এর একটা বড় সুবিধা হলো, টেকনোলজির অনেক বিশাল একটা ক্ষেত্র নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এর একটা অন্ধকার দিকও আছে। এত বেশি বিষয়ে একসাথে কাজ করতে হয় যে, মাঝে মাঝে মনে হয় নির্দিষ্ট কোনো একটা সিঙ্গেল বিষয়ে হয়তো আমি কখনোই শতভাগ ‘এক্সপার্ট’ হতে পারবো না। ‘জ্যাক অব অল ট্রেডস, মাস্টার অব নান’ হওয়ার একটা প্রচ্ছন্ন আফসোস থেকেই যায়।

শেষ কথা: প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতি একটি প্রশ্ন

টেকনোলজি এত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে যে, সব রিসোর্স থাকার পরও চ্যালেঞ্জ প্রতিদিন বাড়ছে। কিন্তু নিজের মতো করে স্কিল ইমপ্রুভ করার জন্য যে একটা শান্ত, নিরিবিলি সময় দরকার—সেটা অনেকে কখনোই পায় না। এই জিনিসটা তাকে প্রতিনিয়ত হতাশ করে। যেসব সফটওয়্যার ডেভেলপাররা কর্পোরেট বা ভালো প্রতিষ্ঠানে ২ দিন সাপ্তাহিক ছুটি আর বছরে পর্যাপ্ত পেইড লিভ পান, তারা হয়তো নিজেদের মতো করে কিছু সময় কাটাতে পারেন, নতুন কিছু শেখার সুযোগ পান। কিন্তু আমাদের মতো রিমোট বা স্বাধীন ফিল্ডের সবাইকে তো সেই সুবিধা সমাজ বা প্রতিষ্ঠান দেয় না।

তাই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে আমি মনে করি, একজন মানুষের জীবনে ‘ছুটি’র গুরুত্ব অপরিসীম। যেসব প্রতিষ্ঠান প্রধানরা মনে করেন কর্মীদের ছুটি না দিয়ে বছরে ৩৬৫ দিন খাটিয়ে নিতে পারলেই প্রতিষ্ঠানের লাভ—তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা কি আসলেই সঠিক কাজ করছেন? একজন ক্লান্ত, অবসাদগ্রস্ত এবং রোবট হয়ে যাওয়া ডেভেলপার কখনো আপনাকে সেরা আউটপুট দিতে পারে না, আর ছুটি না পেয়ে কাজে ফাঁকি দেওয়ার ঘটনা তো আছেই। তাই ক্রিয়েটিভিটির জন্য বিশ্রামের প্রয়োজন অনস্বীকার্য।

আপনার কী মত? একজন ডেভেলপারের প্রডাক্টিভিটি বাড়াতে সাপ্তাহিক ছুটি এবং মেন্টাল ব্রেকের ভূমিকা কতটা? কমেন্টে আপনার অভিজ্ঞতা জানান।

PHP তে Alphanumeric Array Sorting বিড়ম্বনা

PHP তে Array কে খুব সহজেই বিভিন্ন অ‍র্ডারে Sort করা যায়। কিন্তু হঠাৎ সমস্যায় পড়ে গেলাম Alphanumeric Array Sorting এর ক্ষেত্রে। যেমন:

$arr = array(
        "N1",
        "N10",
        "N12",
        "N19",
        "N2",
        "N4",
        "N5",
        "N6",
        "N7",
        "N8",
        "NW1",
        "NW11",
        "NW3",
        "NW5"
);

এটাকে Sort করতে হবে এমন করে:

$arr = [
        "N1",
        "N2",
        "N4",
        "N5",
        "N6",
        "N7",
        "N8",
        "N10",
        "N12",
        "N19",
        "NW1",
        "NW3",
        "NW5",
        "NW11"
];

সেক্ষেত্রে natsort() function ব্যবহার করে খুব সহজেই কাজটা হয়ে গেল:

natsort($arr);

এ প‍র্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল এটাকে json_encode() ফাংশন দিয়ে Json আউটপুট দিতে গিয়ে। আউটপুট Array না হয়ে Object হয়ে যাচ্ছে:

"arr": {
        "0": "N1",
        "4": "N2",
        "5": "N4",
        "6": "N5",
        "7": "N6",
        "8": "N7",
        "9": "N8",
        "1": "N10",
        "2": "N12",
        "3": "N19",
        "10": "NW1",
        "12": "NW3",
        "13": "NW5",
        "11": "NW11"
}

অনেকটা সময় ব্যয় করেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারছিলাম না। অবশেষে অনেক খোজখুজির পর Stackoverflow একটা পোস্ট দেখে ঘটনা বুঝতে পারলাম! ঘটনা হয়েছে এমন-

  • natsort() ফাংশন দিয়ে Sort করার ফলে Array key (index) গুলো উল্টাপাল্টা হয়ে গেছে।
  • Array key গুলোর অ‍র্ডার নষ্ট হয়ে গেছে। দে‍খা যাচ্ছে 0 এর পর 4 এসে গেছে।
  • json_encode তখই PHP Array কে Json Array তে রুপান্তর করবে যখন সেটা 0, 1, 2, 3… এমন Sequential Array হবে।

এই সমস্যার সমাধান হিসেবে এটাকে আগে re-index করতে হবে। তারপর json_encode করতে হবে। যেমন:

$newArr = array_values($arr);
echo json_encode($newArr);

অবশেষে কাঙ্খিত ফলাফল:

"arr": [
        "N1",
        "N2",
        "N4",
        "N5",
        "N6",
        "N7",
        "N8",
        "N10",
        "N12",
        "N19",
        "NW1",
        "NW3",
        "NW5",
        "NW11"
]

ঘরে বসে হাজার হাজার ডলার আয়ের সহজ উপায়

পত্রিকা খুললেই দেখা যায় ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে হাজার হাজার ডলার আয়ের খবর। স্টুডেন্ট, চাকরীপ্রত্যাশী থেকে শুরু করে অনেক চাকরিজীবীও এসব খবর দেখে এ বিষয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠে। অনেকেই মনে করে একটা কম্পিউটার কিনে, ২-৩ মাস ট্রেনিং নিয়ে বসে পড়লেই হাজার-হাজার ডলার আয় করা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা মোটেও এমন না। এমনকি পত্রিকায় যেটা বলা হয় সেটা যে শতভাগ সত্যি এমনও না।

অনলাইনে কাজ করে কিভাবে আয় করা যায় সে বিষয়ে সাহায‍্য করার জন্য বিগত কয়েক বছরে অনেকেই আমার সাথে যোগাযোগ করেছেন। আমি যখন জানতে চাইলাম তারা কম্পিউটার সম্প‍র্কে কতটুকু বোঝে তখন মোটামুটি এমন বক্তব্য পেলাম-

  • যদি আয় করার সম্ভাবনা থাকে তাহলে কম্পিউটার কিনব।
  • কম্পিউটারে টুকটাক টাইপিং করতে পারি।
  • CPA মা‍র্কেটিং এর কাজ করেছি।
  • জিমেইল আইডি খোলার কাজ করেছি।
  • মোবাইল দিয়েই আয় করা যায় না?
  • আমি শুনেছি ক্লিক করে করে ডলার পাওয়া যায়।
  • নেটে টাকা ঢুকালেই তো টাকা আসে শুনেছি। … ইত্যাদি।

আমি তাদেরকে যখন বিস্তারিত বুঝিয়ে বললাম যে, অনেক ধরণের কাজ আছে যেমন-

  • কম্পিউটার গ্রাফিকস
  • সফটওয়্যার টেস্টিং
  • অ্যানিমেশন
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
  • সাইবার সিকিউরিটি
  • অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট …ইত্যাদি

এর মধ্যে আপনাকে প্রথমত যেকোনো একটি বা একাধিক কাজে মোটামুটি দক্ষতা অ‍র্জন করতে হবে, সময় দিতে হবে এর জন্য কতদিন সময় লাগবে সেটা নি‍‍র্ভর করছে আইটি বিষয়ে আপনার কতটুকু অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, ধারণা, আগ্রহ এবং লেগে থাকার ইচ্ছা আছে তার উপর। কাজ শিখে অন্যের কাজ করে দেওয়ার মতো দক্ষতা অ‍র্জনের পরই কেবল এখান থেকে আয় করার চিন্তা করা যায়। এরপরও নিশ্চিত আয় করতে পারবেন এমন কোনো গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না।

অনলাইনে কাজ করে আয় করার ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা শুধুমাত্র তারই বেশি যে টাকা উপা‍র্জনের চিন্তা বাদ দিয়ে আগে কাজ শেখার এবং দক্ষতা অ‍র্জনের দিকে মনোযোগী হয়, এমনকি যদি তার জন্য ৫ বছরও সময় লাগে।

এসব কথাগুলো শোনার পর তারা পুরোই হতাশ হয়ে যায়। কারন, তারা অনেক জায়গায় দেখেছে অনলাইনে খুব সহজেই আয় করা যায়। সবাই চায় খুব সহজে কম কাজ করে কিংবা কাজ না করেই টাকা উপা‍র্জন করতে। কিন্তু এতো কষ্ট করতে হবে জানার পর তার সেই আগ্রহ ওখানেই শেষ হয়ে যায়।

কো‍র্স করলে প্রথম মাস থেকেই আয়

অনেকে বলে ইউটিউবে দেখেছে ৩-৬ মাসের কো‍র্স করলে প্রথম মাস থেকেই ২০-৩০ হাজার টাকা আয় হবে গ্যারান্টি দিয়ে কো‍র্স করানো হচ্ছে। এগুলোর ব্যাপার কি?

সত্যি বলতে এগুলোর বিষয়ে আমি নিজেও ভালোমতো জানি না, জানার চেষ্টাও করি না। তবে যতটুকু বুঝি, এরা তেমন ভালো কিছু শেখায় না। শেখাবেই বা কি? নিজেরা ভালো কিছু পারলে তারপরই তো শেখাবে! এরা অনেক টাকা নিয়ে কো‍র্স করায় আর কিছু কৌশলে ফেক আয় দেখায় এবং টাকা পাইয়ে দেয়। কারো কাছ থেকে ৩০-৫০ হাজার টাকা নিলাম আর মাঝে তাকে ১০-১৫ হাজার টাকা পাইয়ে দিলাম, ব্যাস! তাদের দেখাদেখি আরও অনেকে মিথ্যা আয়ের প্রলোভনে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। টা‍র্গেট দেশের চাকরিপ্রাথ‍ী বেকার জনগোষ্ঠী। অথচ দেশে অনেক নামকরা প্রশিক্ষকও আছে। তারা কখনোই এমন গ্যারান্টি দেয় না।

স্টুডেন্টদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং কতটা উপযোগী?

ভালোভাবে খেয়াল করলে দেখবেন, বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের একটা বড় অংশই স্টুডেন্ট অথবা স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছেন। প্রায়ই খবরে দেখবেন, দশম শ্রেণির ছাত্র হাজার ডলার আয় করছে ঘরে বসে।

প্রকৃতপক্ষে স্টুডেন্ট থাকা অবস্থাতেই ফ্রিল্যান্সিং করা বা কাজ শেখার উপযুক্ত পরিবেশ থাকে। বাংলাদেশে এমন অনেক সফল ব্যক্তিকে আপনি পাবেন যারা পড়াশোনা শেষে ফুল-টাইম ফ্রিল্যান্সার হয়ে গিয়েছেন, আইটি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন অথবা কোনো আইটি কোম্পানিতে জব করছেন, যদিও তারা সম্পূ‍র্ণ ভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। এটা সম্ভব হয়েছ আইটি বিষয়ে তাদের ভালো দক্ষতা থাকার কারনে। যেটা তারা অ‍র্জন করেছেন স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায়।

তবে সবার ক্ষেত্রে তেমন পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা নাও থাকতে পারে। পড়াশোনার পাশাপাশি অন্য কাজে মনোযোগ দিলে পড়াশোনার ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তাই স্টুডেন্টদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং কতটা উপযোগী -এটার পক্ষে-বিপক্ষে দু-দিকেই যুক্তি আছে।

চাকরিজীবীরা কি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারে?

অনেকে বলেন, আমি তো একটা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। সপ্তাহে দুই দিন ছুটি থাকে আবার প্রতিদিন সন্ধ্যার পর আর কোনো কাজ থাকে না। তাহলে আমি প্রতিদিন যদি ২-৩ ঘন্টা সময় দেই তাহলে এখান থেকে আয় করা সম্ভব কিনা?

চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করা আসলেই সম্ভব কিনা আপনিই নিজেই বুঝতে পারবেন। মনে রাখতে হবে, এটাও এক প্রকার চাকরি। এখানে কয়েকটা বিষয় বিবেচনা করতে হবে, যেমন-

  • বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ২-৩ ঘন্টা ঘড়ি ধরে কাজ সুযোগ নেই।
  • অফিসের কাজ শেষে অবসর সময়টা আপনি বিশ্রাম এবং পরিবারের পেছনে না দিয়ে কাজ করবেন কিনা।
  • আপনাকে সময়মতো এবং দ্রুত কাজ করে দিতে হবে, প্রেসার থাকবে। নতুবা আপনি কাজই পাবেন না।
  • ছুটির দিনে আপনি ছুটি না কাটিয়ে, পরিবারকে সময় না দিয়ে এমন অতিরিক্ত প্রেসার নিতে পারবেন কিনা।
  • ফ্রিল্যান্সিং করা যাবে এমন কোনো কাজে ইতোমধ্যে আপনার ‍প‍র্যাপ্ত দক্ষতা আছে কিনা।
  • দক্ষতা না থাকলে, সেটা অ‍র্জনের পেছনে লম্বা সময় দিতে পারবেন কিনা।

এখন নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। বাংলাদেশে এমনও কেউ কেউ আছে যারা ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য চাকরি ছেড়েছেন। দুই দিকে সময় ব্যালেন্স করতে পারেননি এবং ফ্রিল্যান্সিং-এ সম্ভাবনা ভালো মনে হয়েছে বলেই তারা এমন করেছেন।

শেষ কথা হলো, পত্রিকা আর তথাকথিত কো‍র্স ব্যবসায়ীদের হাজার-হাজার ডলার আয়ের প্রলোভনে পড়লে শুধু ক্ষতিই হবে। পুরো বিষয়টা ভালোভাবে জেনে-বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কার জন্য কোনটা উপযোগী সেটা ঠিক করতে হবে। কাজ দেওয়ার নাম করে টাকা চাইলে তার থেকে তো আগেই দূরে থাকতে হবে। নয়তো এটা শুধুমাত্র সময় এবং অ‍র্থের অপচয়ের কারন হবে।

প্রথম ডলার আয় এবং পেপাল

গল্পটা বেশ পুরাতন। নিজের একটা ওয়েবসাইট (ব্লগ) থাকার কারনে অনেক আগে থেকেই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সম্প‍র্কে মোটামুটি ভালো ধারনা ছিল। সেই ওয়েবসাইটের প্রয়োজনে ২০১২ সালে প্রথম একটা ওয়া‍র্ডপ্রেস প্লাগিন ডেভেলপ করি। এরপর ২০১৪ সালে আরেকটা প্লাগিন ডেভেলপ করি। যদিও সেগুলো নিজের প্রয়োজনে করেছিলাম, কিন্তু পরব‍‍র্তীতে অন্যদের মাঝেও সেগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করে টুকটাক আয় করার মতো দক্ষতা তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

পড়তে থাকুন প্রথম ডলার আয় এবং পেপাল

কোডিং -এর জন্য আমার পছন্দের সফটওয়্যার

আপনি যদি একজন ডেভেলপার হয়ে থাকেন কিংবা যদি এমন হয় যে আপনি কোডিং শিখছেন বা শেখাচ্ছেন তাহলে কোড লেখা বা এডিট করার কাজে আপনি অবশ্যই কোন একটা সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। কেউ হয়তো জীবনে প্রথম যেটা ব্যবহার করেছেন ভালো লাগার কারনে সেটাই ব্যবহার করেন। আবার কেউ কেউ সুবিধা-অসুবিধার উপর ভিত্তি করে তার জন্য উপযোগী সফটওয়্যার ব্যবহার করেন।

পড়তে থাকুন কোডিং -এর জন্য আমার পছন্দের সফটওয়্যার